
নিজস্ব প্রতিবেদক, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: শীতের বিদায়ের আগেই ঢাকা জুড়ে কিউলেক্স মশার অসহনীয় উপদ্রব শুরু হয়েছে। রাজধানীর মিরপুর, এসকাটন, রমনা, মোহাম্মদপুর, উত্তরা ও পুরান ঢাকাসহ প্রায় সব এলাকায় মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ নগরবাসী। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে মশা নিধনে ফগিং ও লার্ভিসাইড ছিটানোর দাবি করা হলেও মাঠ পর্যায়ে এর কোনো কার্যকর প্রভাব দেখা যাচ্ছে না।
কেন এই অস্বাভাবিক বিস্তার: কীটতত্ত্ববিদদের মতে, এবারের শীতকাল সংক্ষিপ্ত হওয়ায় নালা ও নর্দমার পানি দ্রুত স্থবির হয়ে পড়েছে, যা কিউলেক্স মশার প্রজননের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছে। বর্তমানে কিউলেক্স মশার ঘনত্ব গত ডিসেম্বরের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ওষুধ ছিটিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; ড্রেন ও ডোবা নিয়মিত পরিষ্কার করে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা ছিল সবচেয়ে জরুরি, যা করতে দুই সিটি কর্পোরেশনই ব্যর্থ হয়েছে।
ডেঙ্গুর আগাম ঝুঁকি: শুধু কিউলেক্স নয়, বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে এডিস মশাও। শীতের তীব্রতা কম থাকায় এডিস মশার লার্ভাগুলো এখনো সজীব রয়েছে। ফলে প্রথম বৃষ্টির সাথে সাথেই ডেঙ্গুর প্রকোপ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘ ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের পর নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিলেও মশা নিধন কার্যক্রমে এখনো কোনো গতি ফেরেনি।
সমন্বিত মশা ব্যবস্থাপনা (IMM) জরুরি: এই সংকট মোকাবিলায় কেবল লোকদেখানো অভিযান নয়, বরং 'ইন্টিগ্রেটেড মস্কুইটো ম্যানেজমেন্ট' বা সমন্বিত মশা ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে রয়েছে নিয়মিত নজরদারি, প্রজনন উৎস ধ্বংস করা, কার্যকর কীটনাশক ব্যবহার এবং জনসচেতনতা বাড়ানো। জনস্বাস্থ্যের এই ঝুঁকি এড়াতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সিটি কর্পোরেশনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।